সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের উপকমিশনার তেবেলো মোসিকিলি জানান, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন, জনসমক্ষে সহিংসতা, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া থাকা অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া এবং ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের পৃথক এক বিবৃতিতে বলা হয়, মঙ্গলবার গভীর রাতে জোহানেসবার্গের আলেকজান্দ্রা টাউনশিপে গোলাগুলিতে একজন নিহত হন। সেখানে বিদেশি নাগরিকদের মালিকানাধীন ছোট দোকান, স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘স্পাজা’ দোকানগুলোতে হামলা ও লুটপাট চালায় একদল বিক্ষোভকারী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ আফ্রিকার নয়টি প্রদেশের মধ্যে পাঁচটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি জোহানেসবার্গের কেন্দ্রস্থল হিলব্রো এলাকায় সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানে গোলাগুলিতে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে বন্দরনগরী ডারবানে এক বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনাও তদন্ত করছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, সম্ভাব্য হামলার আতঙ্কে বিক্ষোভের আগের রাতে তিনি একটি ভবনের অষ্টম তলা থেকে লাফ দেন। পরে তার মৃত্যু হয়।
এই বিক্ষোভের পেছনে ছিল অভিবাসীবিরোধী একটি আন্দোলনের ঘোষণা। আন্দোলনকারীরা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত অভিবাসীদের দেশ ছাড়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার দিনই দেশজুড়ে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
গত কয়েক মাস ধরেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসীবিরোধী উত্তেজনা বাড়ছিল। এ সময় বহু বিদেশি নাগরিককে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়। তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তিতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
এ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে।
তথ্য সূত্র- রয়টার্স।