ডেস্ক নিউজ : সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে আগামী নভেম্বরে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের চূড়ান্ত স্বীকৃতি পাবে। তখন বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সুবিধা কমে যাবে। ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া এমন পদক্ষেপ দেশের জন্য বড় ঝুঁকি ডেকে আনবে।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীতে পোশাক খাত সংশ্লিষ্ট একটি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমন দাবিই করে নিট পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, ‘এলডিসি গ্রাজুয়েশনে যাওয়ার মতো কোনো অবস্থায় নেই বাংলাদেশ। এপথে এগিয়ে যাওয়ার অর্থ হলো- ঘোষণা দিয়ে আত্মহত্যার জন্য প্রস্তুতির পথে আমরা।’
একই দিনে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (আইসিসিবি) আয়োজিত এক সেমিনারে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘আমরা গ্র্যাজুয়েট হতে চাই, তবে আমাদের আরও দুই-তিন বছর সময় দরকার। এই সময়ে জ্বালানি সংকট ও রিজার্ভ পরিস্থিতি উন্নত হবে।’ ব্যাংক খাতের বাইরে অর্থনৈতিক সংস্কার কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় গ্র্যাজুয়েশন পিছিয়ে দেয়ার পক্ষে অর্থনীতিবিদরাও।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, ‘ব্যাংক খাত ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে সংস্কারের অগ্রগতি নেই, তাই উৎসাহ পাচ্ছি না।’সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণ অর্থনৈতিক সাফল্যের চেয়ে রাজনৈতিক সাফল্য প্রদর্শনের বিষয় বেশি ছিল।’
আর ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ বলছে, ভবিষ্যতের জন্য রফতানি বাজার ও পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং শুল্ক কাঠামো সমন্বয় করাই এখন প্রধান প্রস্তুতি হওয়া উচিত।
আয়শা/১৪ আগস্ট ২০২৫/বিকাল ৩:৩৩