ডেস্কনিউজঃ রাষ্ট্র পরিচালনায় যুবকদের প্রাধান্য, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত, প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ গঠন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপসহ ২৬টি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ সন্ধ্যায় ঢাকার একটি হোটেলে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দলের আমীর ডা. শফিকুর রহমান সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার যৌথভাবে দলীয় ইশতেহার উন্মুক্ত করেন। পরে ভিডিও চিত্রে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
নির্বাচনি ইশতেহারে যে ২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার তেবে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী সেগুলো হলো-
১. ‘জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ’ এই জবানের আলোকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন।
২. বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠন
৩. যুবকদের ক্ষমতায়ন এবং এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদেরকে প্রাধান্য দেওয়া
৪. নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্ঝাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন
৫. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি নিরাপদ রাষ্ট্র বিনির্মাণ
৬. সকল পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন
৭. প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন
৮. প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি ও শিল্পসহ নানা সেক্টরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সরকারি চাকরিতে বিনামূল্যে আবেদন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও সকল ধরণের বৈষম্য দূরীকরণ
৯. ব্যাংকসহ সার্বিক আর্থিক যাতে সংস্কারের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব টেকসই ও স্বচ্ছ অর্থনীতি বিনির্মাণ
১০. সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনসহ সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করে সুসংহত ও কার্যকর গণতন্ত্র নিশ্চিত করা
১১. বিগত সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া খুন, ওম ও বিচারবহিভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা
১২. জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবার, আহত ও পঙ্গু পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে
১৩. কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষকদের সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব সৃষ্টি করা
১৪. ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা এবং ‘তিন শূন্য ভিশন’ (পরিবেশগত অবক্ষয়ের শূন্যতা, বার্জার শূন্যতা এবং বন্যা-ঝুঁকির শূন্যতা, বাস্তবায়নের মাধ্যমে ‘সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’ গড়া
১৫. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে ব্যাপকভিত্তিতে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান তৈরি
১৬. শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং মানসম্মত কাজের পরিবেশ, বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ, সৃষ্টি করা
১৭. প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সকল অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং দেশ গঠনে আনুপাতিক ও বাস্তবসম্মত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা
১৮. সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু (মেজরিটি-মাইনরিটি) নয়; বরং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সকলের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পিছিয়ে থাকা নাগরিক ও শ্রেণি-গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা
১৯. আধুনিক ও সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং গরিব ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
২০. সমসাময়িক বিশ্বের চাহিদাকে সামনে রেখে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা
২১. দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার পূর্ণ সংস্থানের নিশ্চয়তা
২২. যাতায়াতব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং রাজধানীর সাথে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর সড়ক/রেলপথের দূরত্ব পর্যায়ক্রমে দুই-তিন ঘণ্টায় নামিয়ে আনা। দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও ঢাকার অভ্যন্তরীণ যাতায়াতব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা
২৩. নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যে আবাসন নিশ্চিত করা
২৪. ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপে চলমান বিচার ও সংস্কার কার্যক্রমকে অব্যাহত রেখে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী বাবস্থার পুনর্জন্ম রোধ করা
২৫. সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করার মাধ্যাম নিরাপদ কর্মজীবন ও পর্যায়ক্রমে সকল নাগরিকদের আন্তর্জাতিক মানের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
২৬. সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করে একটি সুধী ও সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্যে বলেন, আমাদের সংকট, আমাদের অভাব হচ্ছে দায়বদ্ধতা ও সততার। এই জায়গাটা যদি সঠিক থাকতো তাহলে অবশ্যই আমি কে এটা চিন্তা করার আগে আমি ভাবতাম আমার দেশটা কোথায়। আমরা রাজনীতিতে চড়া গলায় বলতে পারি, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। কিন্তু গত ৫৪ বছরের আমরা তার সাক্ষর রাখতে পেরেছি? বরং বিবেক দিয়ে হৃদয় দিয়ে যদি চিন্তা করা যায় আমরা কেবল স্লোগানটাই বলেছি। রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিহাস সমাজের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা ও অঙ্গিকার। জঙ্গণের অধিকার রয়েছে ইশতেহারের সব কিছু ওই দলের কাছ থেকে বুঝে নেয়ার।
তিনি বলেন, ৫ আগষ্টের পর অনেকেই অতীতের স্মৃতি ভুলে গেছেন। স্মৃতি যদি মনে থাকতো আমরা জুলাই যোদ্ধাদের কলিজার ভেতর থেকে সম্মান করতাম, ধারণ করতাম। আর তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের আমরা অঙ্গিকার করতাম। আমরা ছিলাম মজলুম ,আমরা যাতে জালিম না হই। মজলুম মজলুমের দুঃখ বুঝবে।
ড. শফিকুর রহমান আরো বলেন, পেছনের রাজনৈতিক কালচার আর পরিচালনা করতে চাই না।যুব সমাজের হাত ধরে এগিয়ে যেতে চাই । যুব সমাজের প্রত্যাশাকে, আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে আমরা আমাদের ইশতেহার রচনা করেছি, ইশতেহার রচনা করেছি মায়ের জাতিকে সম্মান করার জন্য, শিশুদের নিরাপদ আবাসভূমি তৈরি করে দেয়ার জন্য। শারিরীক সুস্থতার জন্য যা কিছু প্রয়োজন সেসব পূরণ করার জন্য। আমরা কৃষকদের জীবনের বিপ্লব আনতে চাই।
বিপুল/০৪.০২.২০২৬/রাত ৮.২১