ডেস্ক নিউজ : বিশেষ ক্ষমতায় খেলাপি হয়ে যাওয়া ব্যবসায়ীদের আবারও ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতিমধ্যে প্রায় ২৮০টি প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা পেয়েছে। সূত্রের খবর, আরও এক হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ পুনর্গঠন সুবিধা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনাধীন। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে আরও জানা গেছে, এখন পর্যন্ত যেসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, তাদের অনেকের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনামলে বন্ধ ছিল। বিএনপি’র শীর্ষ পর্যায় থেকে মাঠপর্যায়ের নেতাদের ব্যবসা রয়েছে এই তালিকায়।
ঋণ পুনর্গঠনের সুবিধা পেয়েছে বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সৌরভ গ্রুপ, রাজশাহীর এরশাদ গ্রুপ, হবিগঞ্জে অবস্থিত ব্যবসায়ী আরিফুর রহমানের মালিকানাধীন ব্লু প্ল্যানেট গ্রুপের প্রতিষ্ঠান প্যালেস রিসোর্ট, স্কাই ক্যাপিটাল ও বদর স্পিনিং মিলস। সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আরও আছে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং, বেঙ্গল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল প্লাস্টিক, আবদুল মোনেম গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, দেশবন্ধু গ্রুপ, ওপেক্স সিনহা ও তানাকা গ্রুপ।
প্রতিবেদন বলছে, আগুনে পুড়ে যাওয়া গাজী গ্রুপের ঋণও পুনর্গঠনের সুবিধা পেয়েছে। এই তালিকায় আরও রয়েছে জিয়া পরিবারের মালিকানায় থাকা ড্যান্ডি ডাইং লিমিটেড, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আসলাম চৌধুরীর রাইজিং স্টিল, সিলেট বিএনপির নেতা খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সাবাব ফেব্রিকস, গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের ওয়ান ডেনিম, ইলেকট্রনিক খাতের পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফেয়ার ইলেকট্রনিকস, ইফাদ গ্রুপ, এমবিয়েন্ট স্টিল (বিডি), জিপিএইচ ইস্পাত, প্রাইম গ্রুপ, আনোয়ার গ্রুপ, সিল্কওয়েজ গ্রুপ, তানাকা গ্রুপ, ডায়মন্ড স্পিনিং মিলস, মীম গ্রুপ (আলেমা টেক্সটাইল), এসএমএ গ্রুপ (এএ নিট স্পিন), বিইউসি অ্যাগ্রো, ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস, অ্যাপেক্স ওয়েভিং ও অঙ্কুর স্পেশালাইজড কোল্ডস্টোরেজ।
ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরাতে এই উদ্যোগ উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, ২৮০টি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ নীতিসহায়তা দিতে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। করোনাভাইরাস, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও রাজনৈতিক কারণে যেসব প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। আরও আবেদন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ পুনর্গঠনের বিশেষ সুবিধা দেওয়ায় অনেক ভালো ব্যবসায়ীও ঋণের কিস্তি পরিশোধে অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন। তাতে ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনায় অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। বাড়ছে ঋণের সুদহার। আবার ব্যাংকারদের কেউ কেউ বলছেন, যাঁরা পুনর্গঠনের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের অনেকের ঋণ দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি হয়ে আছে। এসব গ্রাহক থেকে বছরের পর বছর কোনো টাকা আদায় করা যাচ্ছিল না। এখন পুনর্গঠনের আওতায় ব্যাংক এককালীন জমা বাবদ কিছু অর্থ পাচ্ছে, যা অনেক ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতির উন্নতিতে ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন পর অনেক গ্রাহকের সঙ্গে ব্যাংকের যোগাযোগের সূত্রপাত ঘটছে।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) কোষাধ্যক্ষ ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শেখ মোহাম্মদ মারুফ বলেন, গাজী গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠান যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের এ ধরনের সুবিধা দেওয়াটা যৌক্তিক। তবে করোনাভাইরাস ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির মতো পুরোনো ইস্যুতে যাদের এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, সেটি প্রয়োজন ছিল না। এ ছাড়া ঋণ পরিশোধে ১৫ বছর পর্যন্ত সময় দেওয়া ঠিক হচ্ছে না। এতে ব্যাংকের তারল্য ব্যবস্থাপনায় সমস্যা হতে পারে।
আয়শা/১৩ আগস্ট ২০২৫/দুপুর ২:০৮