সম্প্রতি অনেকের মুখেই শুনি, যত দোষ আমেরিকানদের। ট্রাম্পের মত একজন কে যারা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বানাতে পারে তারা কি সুস্থ ? অসুস্থদের শিরোমনি ডোনাল্ট ট্রাম্প যদি বিশ্ব যুদ্ধ লাগিয়ে দেয় অবাক হওয়ার কিছু নেই।
খুব কমক্ষেত্রেই যুদ্ধে কোনো এক পক্ষ স্পষ্টভাবে জয়ী হয় না, আর বেশিরভাগ সময়েই সবথেকে বেশি মূল্য চোকাতে হয় সাধারণ মানুষকে। পৃথিবীর সাধারণ মানুষরা আজ বিপর্যয়ের মুখোমুখি একমাত্র ট্রাম্পের কারণে। এই দফায় ক্ষমতায় এসে যেন সে উম্মাদ হয়ে পড়েছে। স্বাধীন দেশ ভেনিজুয়েলার জলজ্যান্ত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কে সে তার দেশ থেকে তুলে নিয়ে গেছে। এই ঘটনায় বিশ্ব যদি প্রতিবাদী হতো তাহলে ইরানে হামলার মত দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত হয়ত ট্রাম্প গ্রহণ করতে পারতনা।
ইরানের ওপরে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চল এবং সারা বিশ্ব জুড়েই নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে, আর মধ্যপ্রাচ্য জুড়েই হাজার হাজার মানুষ ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার আর সরবরাহ ব্যবস্থা যখন বিপর্যস্ত, পৃথিবীর কিছু দেশ তখন তৈরি হচ্ছে কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে। তবে এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই কিছু দেশ আবার নতুন করে কৌশলগত সুযোগ খুঁজছে।
তবে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অনেক দূরেও এর প্রভাব পড়ছে। কোথাও তেলের দাম বেড়ে গেছে, কোথাও আবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় সাধারণ ক্রেতা এবং ব্যবসায়ীদের খরচও বেড়ে গেছে। এই আলোড়নের ফলে কোন দেশ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, কারাই বা লাভবান হবে?
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের গতি খুব দ্রুতই বদলে যাচ্ছে। এই যুদ্ধে ব্যক্তিগত ভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি শিকার হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প। রাষ্ট্র হিসাবে আমেরিকার ক্ষতির বিষয়টি এরই মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। সিনেট তোলপাড়। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনমনেও এই ঢেউ তীব্রভাবে আছড়ে পড়ছে। বিক্ষুব্ধতা প্রকাশ পাচ্ছে আমেরিকানদের মধ্যে।
ইতোমধ্যে ইরানের নৈতিক বিজয় অর্জিত হয়েছে। আমেরিকার মত পরাশক্তিকে গত তিন সপ্তাহ যাবৎ ইরানীরা যে ঘোল খাইয়ে দিয়েছে তা এখন বিশ্বময় আলোচনার বস্তুতে পরিণত হয়েছে। এই যুদ্ধের চালিকা শক্তির আসনে ইরান খুব শক্তভাবে বসে আছে। খুব সহসাই আমেরিকা-ইসরায়েল ভাল কোন ফলাফল সৃষ্টি করতে পারবে বলে যুদ্ধ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন না।
ইরানের পিছনে কলকাঠি নাড়ছে রাশিয়া ও চীন। ইরান রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশ, আবার তাদের সামরিক সহযোগীও। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির হত্যার ঘটনা রাশিয়ার একটি কূটনৈতিক পরাজয়। এই পরাজয়ের শোধ নিতে রাশিয়া কিন্তু বসে নেই। তারা খেলে যাচ্ছে তাদের মত। এই খেলায় ইরানকে প্রযুক্তিগত সকল সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে রাশিয়া ও চীন। চীনাদের চিকন বুদ্ধির কাছে মাথামোটা ট্রাম্প পেরে উঠতে পারবে কি ?
প্রকৃতি তার আপন বলয়েই আবর্তিত হচ্ছে। প্যালেস্টাইন -গাজাকে ইসরাইলিরা বদ্ধভূমিতে পরিণত করেছিল। মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া প্যালেস্টাইনী জনপদের দৃশ্য এখন ইসরাইলে শুরু হয়েছে। বিরামহীন ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় ইসরাইল যেন নিঃস্বাস নিতে পারছেনা।
সব খেলার পিছনেই আসল খেলোয়াড় থাকেন। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে আসল খেলোয়াড়ের ভূমিকায় চীন ও রাশিয়ার মুখাবয়ব এখন অনেকটাই উম্মোচিত। খেলারাম যেন খেলেই যাচ্ছেন। কিন্তু এই খেলার শেষ পরিণতি কি তা বিশ্ববাসী জানে না।
লেখকঃ লুৎফর রহমান একজন রাজনীতিবিদ ও লেখক। তিনি নিয়মিত লেখালেখির পাশাপাশি ইলেক্ট্রনিক নিউজ মিডিয়ার সম্পাদক ও প্রকাশক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র লুৎফর রহমান ৮০ এর দশকের স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতে চারটি রাজনৈতিক উপন্যাস লিখেছেন, যা দেশ বিদেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় জীবনের খন্ডচিত্র এঁকে তিনি এখন ব্যাপক পরিচিত পাঠক মহলে। গঠনমূলক ও ইতিবাচক লেখনীতে তিনি এক নতুন মাত্রা সংযোজন করতে সক্ষম হয়েছেন।
বিপুল/১৮.০৩.২০২৬/বিকাল ৫.৪৮