মীর আহমদ বিন কাসেম তাঁর প্রস্তাবে বেনজীর আহমেদকে সেন্ট লুসিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার কথা বলেন। এর জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বেনজীর সেন্ট লুসিয়ায় গেছেন বলে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক নয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দূতাবাসের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতেই অবস্থান করছেন।
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, বেনজীর আহমেদের ওপর নজরদারি রাখতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।
আমিরাতের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমানে কোনো সক্রিয় দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। তবে পৃথক ঘটনার ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিকভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে।
আলোচনায় বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে হুমায়ুন কবির তাঁকে ‘খুনি’ ও ‘জাতির দুশমন’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে দেশের মানুষের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
মীর আহমদ বিন কাসেমের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলে থাকার সময় তিনি যে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তা অত্যন্ত গুরুতর। তাঁকে শুধু জামায়াতে ইসলামীর সদস্য হিসেবে নয়, একজন বিরোধীদলীয় কর্মী হিসেবে দেখা হয়েছে, যিনি রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।