স্পোর্টস ডেস্ক : টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর স্বাদ বাংলাদেশ পেয়েছে আগেই। তবে তাদেরই মাটিতে তাদের বিপক্ষে কোনো ফরম্যাটেই জিততে পারেনি দলটি। খেলেছেই অবশ্য সব মিলিয়ে ৮টি ম্যাচ। ২০২৬ সালে এসে সেই আক্ষেপ ঘোচানোতে পারবে বাংলাদেশ, সে বিশ্বাস গড়ে উঠেছে ডারউইন টেস্টের প্রথম দুই দিনে। তবে সে বিশ্বাসকে বাস্তবতায় রূপ দিতে হলে কী করতে হবে, সেটাও জানিয়ে দিয়েছেন সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম।
তামিম আক্রমণাত্মক ব্যাটার হিসেবে পরিচিত। আগের দিন ডেভিড ওয়ার্নাররা ধারাভাষ্যকক্ষে বারবারই আলোচনা করেছেন। সেই স্ট্রোকমেকার তামিমই কি না, আজ সেঞ্চুরিটা করলেন মোটে ৫১ স্ট্রাইক রেটে। অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে বিষয়টা খানিকটা বিস্মিতই করেছিল। সে কারণে প্রশ্নটা না করে পারলেন না। সে বিষয়ে তামিম বলেন, ‘হ্যাঁ, দলের যেটা প্রয়োজন ছিল, আমি সেভাবেই খেলার চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয় উইকেট ভালো ছিল। তারা আমার কাছে অন্যভাবে এসেছিল, আর আমি স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করেছি এবং নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি।’
অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণের নামগুলো দেখুন— মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড, প্যাট কামিন্স, নাথান লায়ন। এদের মধ্যে সবচেয়ে অনভিজ্ঞ হ্যাজেলউডের ঝুলিতেও আছে ২৯৫টি উইকেট। এমন বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে এমন ব্যাটিংয়ের রহস্য কী?তামিম বললেন, ‘আমি শুধু বল দেখেছি আর বল অনুযায়ী খেলেছি। বেশি কিছু করার চেষ্টা করিনি, শুধু শান্ত থেকে ওরা যা বল করেছে আর যেভাবে পরিকল্পনা করেছে সেভাবে খেলেছি। আমি শুধু বলটা খেলেছি।’
আগের দিন মোটে ৫৩ ওভার খেলেই অলআউট হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। সেই উইকেটে দাঁড়িয়ে সেঞ্চুরি করলেন তামিম। ডারউইনের পিচ নিয়ে তামিম বলেন, ‘আমার মনে হয় উইকেট আগের চেয়ে, মানে প্রথম দিনের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। আমার মনে হয় এটা আরও ভালো হতে থাকবে। আর আমার মনে হয় এই উইকেটে যদি আমরা স্বাভাবিক ক্রিকেটীয় শট খেলি, তাহলে আমাদের জন্য ভালো হবে।’
অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে দেওয়া, ব্যাটিংয়ে নেমে ১০০’রও বেশি লিড… এমন পারফর্ম্যান্স দলের সবার মনে জয়ের বিশ্বাস না এনেই পারে না। তামিম অকপটে স্বীকার করে নিলেন বিষয়টা। তবে সেটা করতে হলে কী করতে হবে, তাও জানিয়ে দিলেন তামিম। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ (বড় কিছুর বিশ্বাস তৈরি হয়েছে); তবে আমাদের এই দুই সেশনও খেলতে হবে। আমরা যদি এই সেশনগুলো সত্যিই ভালোভাবে খেলতে পারি, তাহলে আমাদের দলের জন্য এটা আরও ভালো হবে।’
তামিম যখন এই সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন, দল তখন চা বিরতির জন্য উঠে গেছে প্যাভিলিয়নে। তৃতীয় সেশনে অবশ্য নতুন বলে খানিকটা পা হড়কে গিয়েছিল দলের, ১১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে গিয়েছিল। তবে হাসান মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ সেটা পেছনে ফেলার ইঙ্গিত দিচ্ছেন এখন। তামিম যে পথ বাতলে দিয়েছেন, সেটা অনেক লম্বা, বন্ধুরও। তবে তা যদি শেষমেশ মাড়িয়েই ফেলতে পারেন মিরাজরা, তাহলে ডারউইনে ইতিহাস গড়ার বিশ্বাসটা জোর সম্ভাবনাতেই রূপ নেবে বৈকি!
আয়শা/১৪ অগাস্ট ২০২৬,/দুপুর ১:৪৪