স্পোর্টস ডেস্ক : বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার চলমান ডারউইন টেস্টে স্টিভেন স্মিথকে ঘিরে একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর আবারও আলোচনায় এসেছে ডিআরএসের ‘স্নিকো’ প্রযুক্তি। এর আগে সর্বশেষ অ্যাশেজ সিরিজেও এই প্রযুক্তির অডিও সমন্বয় নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক দেখা দিয়েছিল।
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে দারুণ বোলিং করছে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ। স্টিভেন স্মিথ ছাড়া স্বাগতিকদের অন্য ব্যাটাররা খুব একটা প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। তবে স্মিথের একটি আউটের আবেদন নিয়ে ম্যাচে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা।
ব্যক্তিগত ৭ রানে থাকা অবস্থায় এবাদত হোসেনের একটি ডেলিভারি স্মিথের ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে জমা হয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। সঙ্গে সঙ্গে জোরালো আবেদন জানানো হলেও আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা আউট দেননি।
এরপর বাংলাদেশ রিভিউ নেয়। রিপ্লে দেখে স্মিথ নিজেও কিছুটা প্যাভিলিয়নের দিকে হাঁটতে শুরু করেছিলেন, যেন তিনি নিশ্চিত ছিলেন বলটি ব্যাটে লেগেছে। কিন্তু স্নিকো প্রযুক্তিতে কোনো স্পাইক বা শব্দের সংকেত ধরা না পড়ায় তৃতীয় আম্পায়ার তাকে নটআউট ঘোষণা করেন। ফলে আরেকবার জীবন পান অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের হতাশা স্পষ্ট ছিল। কেউ কেউ হাসিমুখে স্মিথের দিকেও তাকান, যেন জানতে চাইছিলেন বলটি সত্যিই ব্যাটে লেগেছিল কি না। ধারাভাষ্যকাররাও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং অ্যাশেজ সিরিজে স্নিকো প্রযুক্তি নিয়ে হওয়া বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে আনেন।
সর্বশেষ অ্যাশেজ সিরিজের অ্যাডিলেড টেস্টে স্নিকোমিটার ব্যবহারে গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়ে। ভুল মাইক্রোফোনের অডিও ব্যবহার করার কারণে শব্দ ও ভিডিওর মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছিল। পরে প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান স্বীকার করে যে অপারেটর ভুল করে বোলারের প্রান্তের স্টাম্প মাইক্রোফোনের অডিও ব্যবহার করেছিলেন, যার ফলে সঠিক সময়ে শব্দ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারি ৭২ রানে থাকা অবস্থায় বল ব্যাটে লাগলেও স্নিকোতে কোনো স্পাইক দেখা যায়নি এবং তিনি নটআউট থেকে যান। পরে ক্যারি নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে তিনি বলের স্পর্শ অনুভব করেছিলেন। ঘটনাটি নিয়ে ইংল্যান্ড দল আনুষ্ঠানিক অভিযোগও জানায়।
পরদিন ইংল্যান্ডের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জ্যামি স্মিথের আউটের ক্ষেত্রেও স্নিকোর স্পাইক ও ভিডিও চিত্রের মধ্যে অসঙ্গতি দেখা যায়। তখন অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্ক প্রকাশ্যে প্রযুক্তিটির সমালোচনা করে এটিকে ‘খারাপ প্রযুক্তি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
ডারউইন টেস্টে স্টিভেন স্মিথকে ঘিরে নতুন বিতর্কের পর ক্রিকেট মহলে আবারও প্রশ্ন উঠছে—স্নিকো প্রযুক্তি কতটা নির্ভরযোগ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা আদৌ কতটা নিশ্চিত।
কিউএনবি/আয়শা/১৩ অগাস্ট ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৩০