তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : আধুনিক জীবনের তীব্র চাপ সামলানোর জন্য মানুষের মস্তিষ্ক হয়তো কখনোই তৈরি হয়নি। সিঙ্গাপুরের একদল গবেষক তাদের নতুন এক গবেষণায় এমনটাই দাবি করেছেন। বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের বর্তমান মানসিক ও সামাজিক সংকটের মূল কারণ হলো একটি ‘বিবর্তনগত ফারাক’। অর্থাৎ, মানুষ যে পরিবেশে বিবর্তিত হয়েছে এবং বর্তমানে যে পরিবেশে বাস করছে—এ দুটির মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে।
‘বিহেভিয়ারাল সায়েন্সেস’ জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, লাখ লাখ বছর ধরে ছোট ছোট দলে মানুষের মস্তিষ্ক বিকশিত হয়েছে। সে সময় তাদের কেবল পরিচিত ও তাৎক্ষণিক বিপদের মোকাবিলা করতে হতো। এর ঠিক বিপরীতে, আজকের আধুনিক জীবনে রয়েছে জনবহুল শহর, সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং একে অপরের সঙ্গে ক্রমাগত তুলনা করার প্রবণতা।
গবেষকরা বলছেন, পরিবেশের এই বিশাল ফারাকের কারণেই মানুষ এখন প্রতিনিয়ত মানসিক চাপ, একাকিত্ব এবং উদ্বেগে ভুগছে। তাই এসব অনুভূতিকে শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে না দেখে, নতুন ও অচেনা পরিবেশের প্রতি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা উচিত।
গবেষণায় মানবসভ্যতার ‘বহুমুখী সংকট’ বা পলিক্রাইসিসের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মহামারি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ মানুষের ওপর একযোগে চাপ ফেলছে। এর ফলে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও প্রতিযোগিতার অনুভূতি মারাত্মকভাবে বাড়ছে, যা সার্বিক সুস্থতা কমিয়ে দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথও দেখিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, মানুষের মনস্তাত্ত্বিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে আমাদের শহর, কর্মক্ষেত্র এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর নকশা করা উচিত। বেশি সবুজ এলাকা এবং অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা কমায়—এমন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে পারে। বিজ্ঞানীদের আশা, মানুষের বিবর্তন এবং আধুনিক জীবনযাপনের মধ্যকার এই শূন্যস্থানটি বুঝতে পারলে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যের জন্য আরও স্বাস্থ্যকর ও কার্যকর নীতি গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
অনিমা/২২ জুলাই ২০২৬,/বিকাল ৪:৩৪