ডেস্কনিউজঃ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাস, আইন প্রণয়ন ও দীর্ঘ আলোচনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন। প্রায় এক মাসব্যাপী এ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের ওপর টানা ১৪ কার্যদিবসে প্রায় ৪৯ ঘণ্টা আলোচনা করেন ৩১৬ জন সংসদ সদস্য।
অধিবেশনে ১০টি সরকারি বিল পাস, সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিসহ ১১টি সংসদীয় কমিটি গঠন, পাঁচ হাজারের বেশি প্রশ্নের উত্তর প্রদান এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য বলছে, আইন প্রণয়ন ও সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এবারের অধিবেশন সংসদীয় কার্যক্রমের দিক থেকেও ছিল বেশ কর্মব্যস্ত। মোট ২৬ কার্যদিবসের এ অধিবেশন সমাপ্তির মধ্য দিয়ে নতুন অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক পথও উন্মুক্ত হলো।
বুধবার (১৫ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২৬তম দিন তথা সমাপনী দিনে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বক্তব্য রাখেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বাজেট অধিবেশনে মোট ২৬টি কার্যদিবস অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা চলে ১৪ কার্যদিবস। মোট ৪৮ ঘণ্টা ৫১ মিনিটের এ আলোচনায় সরকার ও বিরোধী দলের ৩১৬ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন।
আলোচনায় বাজেটের বিভিন্ন খাত, রাজস্ব আহরণ, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন সংসদ সদস্যরা।
অধিবেশন চলাকালে মোট ১০টি সরকারি বিল পাস হয়েছে। পাশাপাশি সংসদের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিসহ মোট ১১টি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া কার্য উপদেষ্টা কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়েছে।
সংসদীয় নজরদারির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম কার্যপ্রণালী-বিধির ৭১ বিধির আওতায় এ অধিবেশনে মোট ৭১৫টি নোটিশ জমা পড়ে। এর মধ্যে ২৪টি নোটিশ গ্রহণ করা হয় এবং ২২টি নোটিশের ওপর সংসদে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
একইভাবে ৭১(ক) বিধির আওতায় দুই মিনিটের ১২৫টি নোটিশ আলোচিত হয়েছে, যা বিভিন্ন এলাকার জনদুর্ভোগ ও জরুরি জাতীয় ইস্যু সংসদে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
এ ছাড়া কার্যপ্রণালী-বিধির ১৩১ বিধি অনুযায়ী চারটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব আলোচনা শেষে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রশ্নোত্তর পর্বেও ছিল উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম। প্রধানমন্ত্রীর উত্তরদানের জন্য মোট ২৭৮টি প্রশ্ন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৫টি প্রশ্নের উত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। অন্যদিকে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের উদ্দেশে ৫ হাজার ৩১টি প্রশ্ন জমা পড়ে, যার মধ্যে ৩ হাজার ৪৭৪টি প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে। এসব প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নীতি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের অবস্থান সংসদে তুলে ধরা হয়।
সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাজেট অনুমোদনের পাশাপাশি আইন প্রণয়ন, প্রশ্নোত্তর, নোটিশের ওপর আলোচনা এবং সংসদীয় কমিটি গঠনের মাধ্যমে এবারের বাজেট অধিবেশন সংসদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে বাজেটের ওপর দীর্ঘ আলোচনা এবং বিপুলসংখ্যক সংসদ সদস্যের অংশগ্রহণ সংসদীয় কার্যক্রমকে আরো প্রাণবন্ত করেছে।
অধিবেশন সমাপ্তির মধ্য দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক পথ উন্মুক্ত হলো।
১৫.০৭.২০২৬/রাত ১০.০৯