আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিদিন লাখো কনটেন্ট শেয়ার করা হয়। প্রতিদিন কোটি মানুষ তা দেখেনও। কিন্তু মাঝে মধ্যে দুয়েকটা ছোট কনটেন্ট মানুষকে মুগ্ধ করে, মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়, মানবতাকে উর্ধ্বে তুলে ধরে।
নয়াদিল্লীর ব্যস্ত এলাকা কনট প্লেসে মাকিন ইনফ্লুয়েন্সার স্টিভ ইয়ালোর সাথে এক কলম বিক্রেতা বৃদ্ধার কথোপকথন রীতিমত ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এক মিনিট ২০ সেকেন্ডের ভিডিও প্রমাণ করে উদারতা, মানবতা আসলে অমূল্য।
মানুষকে সম্মান করতে, তার মর্যাদাকে উর্ধ্বে তুলে ধরতে টাকা লাগে না। তার চেয়ে বড় কথা হলো, একজন মানুষ আরেকজনের মানুষের সাথে সংযোগ সৃষ্টির জন্য ভাষা কোনো বাধা নয়। একজন ভালো মানুষ চাইলেই হৃদয়ের উষ্ণতা দিয়ে আরেকজন মানুষের হৃদয় জয় করতে পারেন।
হেঁটে যাওয়ার সময় স্টিভ ইয়ালো দেখতে পান এক বয়োবৃদ্ধা কনট প্লেসের ফুটপাতে বসে কলম বিক্রি করছেন। কিন্তু তেমন কেউ তার কাছ থেকে কলম কিনছেন না। আসলে স্মার্ট ডিভাইসের যুগে কলমের চাহিদাও কমে গেছে। স্টিভের হয়তো কলম দরকারও ছিল না। তবু তিনি বৃদ্ধাকে দেখে এগিয়ে যান।
কেমন আছেন? জানতে চাইতেই বৃদ্ধা উত্তর দেন ফোকলা দাঁতের হাসিতে। এই হাসিতেই এক ভারতীয় বৃদ্ধার সাথে এক মার্কিন তরুণের দারুণ এক সংযোগ ঘটে। এ সংযোগ পারস্পরিক মর্যাদা, ভালোবাসা আর সম্মানের। স্টিভ জানতে চান, কলমের দাম কত? কাশফুলের মত সাদা চুলের বৃদ্ধা হেসে উত্তর দেন, ’ফিফটি’। সম্ভবত এই একটি ইংরেজি শব্দই তাকে কেউ শিখিয়ে দিয়েছে। এরপর স্টিভ তার নাম জানতে চান। বৃদ্ধার উত্তর ছিল গালভরা হাসি। স্টিভ প্রথমে একশ রুপি দিয়ে দুটি কলম কেনেন।
পরে কেনেন আরো দুটি। এক পর্যায়ে গুনে দেখেন বৃদ্ধার হাতে মোট ১৮টি কলম আছে। ক্যালকুলেটরে হিসাব করে দেখেন, দাম মোট ৯০০ রুপি। কিন্তু স্টিভের কাছে ছিল সাকুল্যে ৫৫০ রুপি। নিজের সর্বস্ব তিনি বৃদ্ধার হাতে তুলে দেন। বৃদ্ধার জন্য শুভকামনা জানিয়ে যাওয়ার সময় স্টিভ নিয়ে যান শুধু দুটি কলম। কথোপকথনের এক পর্যায়ে কলম বিক্রেতা বৃদ্ধা বলছিলেন, তিনি একা মানুষ, একা থাকেন। কিস্তু স্টিভ আবার হিন্দি বোঝেন না। বলছিলেন পরে অনুবাদ করে বুঝে নেবেন। একদম হিন্দি না বোঝা মার্কিন পযটকের সাথে ‘ফিফটি’ ছাড়া আর কোনো ইংরেজি শব্দ না বোঝা ভারতীয় বৃদ্ধার এক মিনিট ২০ সেকেন্ডের কথোপকথনই এখন হয়ে উঠেছে সারল্য, উদারতা আর মানবতার স্মারক। তাদের কথোপকথন বুঝতে কারো দোভাষি লাগেনি। হাসি আর ভালোবাসার কোনো অনুবাদ লাগে না।
অনেকেই সেই পোস্টে মন্তব্য করতে গিয়ে তাদের ভালোলাগার অনুভূতির কথা জানিয়েছেন। তাদের এই কথোপকথনকে বর্নণা করেছেন, দয়া ও মানবিক বন্ধনের শক্তির এক হৃদয়ছোঁয়া চিহ্ন হিসেবে। আসলে ছোট ছোট উদারতাও অনেক সময় দুই পক্ষের মধ্যেই সম্পর্কের দারুণ রসায়ন সৃষ্টি করতে পারে। আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘কখনও কখনও আমরা কাউকে সবচেয়ে মূল্যবান যে জিনিসটি দিতে পারি তা টাকা নয়, সেটি হলো এক মুহূর্তের মর্যাদা এবং উদারতা।’
আসলেই টাকা দিয়ে সবকিছু কেনা যায় না। মানুষকে মযাদা দিতে, সম্মান করতে লাগে একটি উদার, মানবিক হৃদয়।
অনিমা/১৪.০৬.২০২৬/দুপুর ২.২১