ডেস্কনিউজঃ কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গোড়াই আনন্দবাজার এলাকায় এক মাসের ব্যবধানে আবারও সাজেদা বেগম (৪৫) নামের সেই নারীকে একটি তেঁতুলগাছের মগডালে দেখা গেছে। সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন তাঁকে পুকুরপাড়ের ওই গাছের উঁচু ডালে বসে থাকতে দেখেন। পরে তিনি গাছের একটু নিচে নেমে পাশের পুকুরের পানিতে লাফ দেন।
সাজেদা বেগম গোড়াই আনন্দবাজার এলাকার বাসিন্দা এবং আবু সাইদের স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর থেকে সাজেদা বেগমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড়ের তেঁতুলগাছের মগডালে তাঁকে দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাছের ডালে সাজেদা কখনো বসা, কখনো শোয়া অবস্থায় ছিলেন। একপর্যায়ে তাঁর ছেলে গাছে ওঠার চেষ্টা করলে তিনি নিজেই ডাল বেয়ে একটু নিচে নেমে পুকুরে লাফ দেন।
আমি কীভাবে সেখানে যাই বা গাছে উঠি, তা কিছুই বুঝতে পারি না। আজ ফজরের নামাজের পর বাড়ির আঙিনায় হাঁটছিলাম। হঠাৎ শরীরে একধরনের শীতল স্পর্শ অনুভব করি। এরপর আর কিছু মনে নেই।
এলাকাবাসী জানান, সাজেদা বেগম এর আগেও একই ঘটনা ঘটিয়েছেন। গত ৬ মে নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁকে ওই তেঁতুলগাছের মগডালে পাওয়া যায়। সে সময় কুড়িগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের একটি দল তাঁকে উদ্ধার করে। এরও আগে রমজান মাসে তাঁকে একই গাছে দেখা গিয়েছিল বলে দাবি করেন স্বজনেরা।
সাজেদা বেগমের দাবি, কীভাবে এ ঘটনা ঘটে তা তিনি বুঝতে পারেন না। যতবার এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, ততবারই তিনি নামাজ শেষে বা নামাজের প্রস্তুতির সময় ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি কীভাবে সেখানে যাই বা গাছে উঠি, তা কিছুই বুঝতে পারি না। আজ ফজরের নামাজের পর বাড়ির আঙিনায় হাঁটছিলাম। হঠাৎ শরীরে একধরনের শীতল স্পর্শ অনুভব করি। এরপর আর কিছু মনে নেই।’
সাজেদা বেগমের স্বামী আবু সাইদ বলেন, ‘অনেকে আমার স্ত্রীকে মানসিক রোগী মনে করেন; কিন্তু আমরা তাকে রংপুর ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেছি। কোনো নির্দিষ্ট রোগ শনাক্ত হয়নি। কয়েকবার এমন হয়েছে, ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগানো ছিল; কিন্তু পরে তাকে ঘরে পাওয়া যায়নি। আজও বাড়ির গেটে তালা ছিল। তারপরও আমার স্ত্রী অন্যের বাড়ির পুকুরপাড়ের ওই তেঁতুলগাছে উঠে বসে ছিল।’
বিপুল/০৮.০৬.২০২৬/রাত ৯.৪৭