আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে মানবিক সহায়তা বহনকারী বাহনগুলোতে হামলার পাশাপাশি প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। যে কারণে ৬৩ শতাংশ সহায়তাই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি।
জাতিসংঘের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরায়েল চুক্তি বারবার লঙ্ঘন করার কারণেই ত্রাণবাহী বহর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে যেতে পারছে না।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এক শুনানিতে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কর্মকর্তা সামের আবদেলজাবের জানিয়েছেন, সংকট অব্যাহত থাকলে আগামী বছর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় ৫২ লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধার শিকার হবেন। পরিস্থিতি কোভিড-১৯ ও ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়েও খারাপ।
তিনি বলেন, ক্লিয়ারেন্স পাওয়া কনভয় বা ত্রাণবহরগুলোতে একের পর এক চেকপোস্টে আটকে রেখে হয়রানি করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে একটি ত্রাণ কনভয় শেষ করতে সময় লেগেছে ১৫ ঘণ্টা। ইসরায়েলি বাহিনী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের সঙ্গেও উদ্ধত আচরণ করছে বলেও জানা গেছে।
দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। আবদেলজাবের জানান, সেখানে ৮০ শতাংশের বেশি বাজার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। খাদ্যসংকট এতটাই প্রকট যে মানবিক সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
তিনি সতর্ক করে দেন, ‘এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী বছর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় ৫২ লাখ মানুষ তীব্র দুর্ভিক্ষের মুখে পড়বে। সারা বিশ্বে এই সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ৪৫ মিলিয়নে।’
মানবিক সরবরাহ শৃঙ্খলে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা ‘কোভিড-১৯ ও ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ের চেয়েও বেশি’ বলে মন্তব্য করেছেন আবদেলজাবের। তিনি খরচ বৃদ্ধি, ডেলিভারিতে দেরি ও অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করেন।
একই শুনানিতে লেবানন হিউম্যানিটারিয়ান অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সমন্বয়ক মোহাম্মদ মানসুর আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার তীব্র নিন্দা জানান।
মানসুর বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের প্রভাব ও চাপ প্রয়োগ করতে পারে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। আইন ভঙ্গকারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে গাজা ও লেবাননের পরিস্থিতি আর কখনো না ঘটে।’
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের উন্নয়ন কমিটির চেয়ার ব্যারি অ্যান্ড্রুজ সম্প্রতি বৈরুত সফর করেন। সেখানে তিনি বাস্তুচ্যুত মানুষজনের ভয়াবহ দুর্দশা দেখেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, খাবারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের তীব্র সংকট রয়েছে। বাস্তুচ্যুত ক্যাম্পগুলোর জীবনযাপনের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর, সানা
অনিমা/১৫ এপ্রিল ২০২৬,/দুপুর ১:৪১